দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতীয় সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান।
শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কেউ কেউ সংসদের ছোটখাটো বিষয় রাজপথে নিয়ে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন। তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, গঠনমূলক সমাধানে বিশ্বাসী। প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে, এখন দেশ গঠনের সময়। তিনি বলেন, যারা সমস্যা সৃষ্টি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে এবং এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আন্দোলন ও গণতন্ত্রের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এ আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের চিত্র তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মব সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানান এবং এসব প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণ করেন। তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। এর কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, বিপিজেএর সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
এমএম/